ইতিহাসের মহানায়ক ও রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার

ইতিহাসের মহানায়ক ও রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার

ইতিহাসের মহানায়ক ও রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার

ইতিহাসের মহানায়ক ও রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার
১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর দিবাগত রাত (৩ নভেম্বর) ৩টায় খালেদ মোশারফের নির্দেশে ক্যাপ্টেন হাফিজউল্লাহকে এক প্লাটুন সৈন্যসহ সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় পাঠিয়ে তাকে গৃহবন্দী করেন কর্নেল শাফায়াত জামিল। শাফায়াত জামিলের বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী- ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ জিয়াউর রহমানের বাসার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং তাকে নিষ্ক্রিয় করে প্রটেক্টিভ কাস্টডিতে নেয়। তারপর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন।
কর্নেল শাফায়াত জামিল, কর্নেল আব্দুল হামিদ, মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী সহ অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাতেই এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।
৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং তিনি নিজে সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য আগস্ট অভ্যুত্থানের নেতাদের সাথে একটি সমঝোতা করে রাষ্ট্রপতির (মোশতাক) ফরমানের মাধ্যমে তাদের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে তাদেরকে একটি বিমানে করে ব্যাংকক পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ওই একই বিমানে ব্যাংকক গিয়ে তাদের নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন খালেদ মোশারফের স্ত্রী রুবি মোশারফ। এই সত্যও ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে।
শেখ মুজিবকে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট হওয়া খন্দকার মোশতাকের মূর্তি এখনো পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে মেহেরপুর আম্রকাননে। খালেদ মোশারফ এর ভাই ১৯৯৬-২০০১ সময়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী হয়েছে আর এখন এমপি পদে বহাল রয়েছে খালেদ মোশারফের মেয়ে মাহজাবিন খালেদ। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদের সামরিক উপদেষ্টা, পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনও করেছিলেন। ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন।
যে খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান হবার লালসায় আগস্ট অভ্যুত্থানের সেনা কর্মকর্তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠালেন তার মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বহাল থাকছে, তার মেয়ে মাহজাবিন খালেদ আওয়ামী লীগের এমপি পদে বহাল থাকছে, তাদের চাকুরী সামরিক বাহিনী হতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিদেশে পাঠানোর ফরমানের স্বাক্ষর করা খন্দকার মোশতাকের মূর্তি বহাল থাকছে, এ কে খন্দকারের খেতাব বহাল থাকছে, শফিউল্লাহর খেতাব বহাল থাকছে।
কিন্তু ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় আগস্ট বিপ্লবের হোতাদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করে খেতাব বাতিল করার প্রস্তাব করা হচ্ছে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের, যিনি আগের রাত থেকেই ছিলেন খালেদ মোশাররফের হাতে বন্দি।
এই প্রস্তাব আবার নিয়েছে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল' নামে এক ভুঁইফোড় সংস্থা যার নেতৃত্বে আছে পরিবহন মাফিয়া এবং সাবেক জাসদ নেতা শাজাহান খান। যে কিনা নিজেই শেখ মুজিবের হত্যার পর খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিল।
আল-জাজিরার #ঢাকা_মাফিয়া ডকুমেন্টারির আলোচনা থামাতে সরকার যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করবে এটা তো সবাই জানে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খেতাব টেতাবের অনেক ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন। উনার বিরুদ্ধে কিছু করা মানে উনাকে আরো বেশি জনপ্রিয় করা।

jubo dal

Leave a Reply

Close